ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ-সমুহ কি কি? - Alzheimer Society of Bangladesh

Dementia Help Line

Cell No: +8801720 498197
Cell No: +8801857 601061

Email:- info@alzheimerbd.com

ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ-সমুহ কি কি?

প্রতিটি ব্যক্তিই যেমন আলাদা তেমনই তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার প্রকাশভঙ্গিও আলাদা। দুটি মানুষের মধ্যে ঠিক একই রকমভাবে ডিমেনশিয়ার লক্ষণসমুহ প্রকাশ পায় না। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, স্বাস্থ্য, সামাজিক অবস্থার সবগুলোই এক্ষাত্রে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। এটা তার জীবনের উপর ডিমেনশিয়া ঠিক কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নির্ধারণ করে থাকে।

আলঝেইমার রোগ ও অন্যান্য ধরণের ডিমেনশিয়ার মধ্যে কিছু চিত্র ভিন্ন থাকলেও এর সবগুলোর মধ্যেই উদার সামঞ্জস্য বিদ্যামান। এদের সাধারন চরিত্র হচ্ছে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া সহ নিত্য ব্যবহারিক কাজে অক্ষমতা, যা রোগীকে তার কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করে। আপনি যদি মনে করেন যে এ সমস্যা আপনার দৈনন্দিন জীবনে ব্যতায় ঘটাচ্ছে বা আপনার পাশে কারুর ক্ষেত্রে এরকম ঘটছে তাহলে আপনার ডাক্তারের কাছে আলাপ করুন।

এটার প্রকোপ এত বেশী যে ডিমেনশিয়া বলতে আলঝেইমার রোগই বুঝায়। স্বল্পশিক্ষিত ডায়াবেটিস আক্রান্ত বয়স্ক মহিলারা এর প্রধান শিকার। পুরুষদের আয়ু তুলনামুলক ভাবে কম বিধায় যারা বেঁচে থাকবেন তারাও সমান হারে আক্রান্ত হতে পারেন।

প্রাথমিক অবস্থায় ডিমেনশিয়ার যেসব লক্ষণ প্রকাশিত হয় সেগুলো নিম্ন রুপ-

স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা  

স্মৃতিশক্তি কমতে থাকা পাওয়া বিশেষ করে স্বল্প মেয়াদি স্মৃতি খোয়ানো ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষন। যিনি সাধারনভাবে ভুল্ প্রবন তিনি কোন কথা ভুলে গেলেও তার সংস্লিষ্ট বিষয় ভুলে যান না। ধরুন কেউ পাশের বাড়ীর লোকটির সাথে কথা বলছেন অথচ নামটা মনে আসছে না। এরকম হতে পারে। তবে তিনি কখনই এটা ভুলেন না যে লোকটা তার প্রতিবেশী। অথচ একজন ডিমেনশিয়া রোগী তার প্রতিবেশীর নাম ভুলে যাওয়ার সাথে সাথে তার সম্পর্কিত সব তথ্যই বেমালুম ভুলে যান।

জানা কাজ করতে আটকে যাওয়া

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কর্ম সম্পাদনে ক্লেশ বোধ করেন যেগুলি নিয়ে আমরা কখনো ভাবিনা। চা-নাস্তা বানানো, জামাকাপড় পরা তো সাধারণ মামুলি ব্যাপার কিন্তু একজন ডিমেনশিয়া রোগী কিভাবে জামাকাপড় পরবেন বা রান্না করবেন তা পুরাপুরি ভুলে যেতে পারেন।

ভাষাগত সমস্যা

প্রত্যেকেরই কখনও কখনও কথা বলার সময় যুতসই কথাটী মনে আসে না কিন্তু একজন ডিমেনশিয়া রোগী অতি সাধারন কথাটিও মনে করতে পারেন না অথবা তার পরিবর্তে এমন সব কথা বলেন বা লিখেন যেসব বুঝতে পারাই কঠিন হয়ে যায়।

সময় ও স্থান বিষয়ক বিভ্রান্তি

আমরা কখনও কখনও ভুলে যাই আজ সপ্তাহের কোনদিন বা এখন কোথায় যাচ্ছি। কিন্তু ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি পরিচিত জায়গায় থাকাকালীন সময়েই সবকিছু গুলিয়ে ফেলেন। যেমন তার দীর্ঘকালের পরিচিত যে রোডে তিনি থাকেন সেই রোডেই খেই হারিয়ে ফেলেন। তখন কোথায় তিনি আছেন বা সেখানে কিভাবে গেলেন এবং কিভাবে বাড়ী ফিরতে হবে সে রাস্তা ভুলে যান। এমনকি একজন ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি এখন দিন কি রাত্রি সে বিষয়েও সন্দিহান হতে পারেন।

বিচার-বিবেচনার অভাব বা স্বল্পতা

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ অনুপযোগী পোশাক পরে বের হতে পারেন। যেমন গরমের দিনে কয়েক স্তরের মোটা জামাকাপড় বা শীতের দিনে ঠান্ডার মধ্যে পাতলা একটা জামা গায়ে দি‍যে কোথাও রওয়ানা হলেন।

বেঠিক স্থানে জিনিস পত্র রাখা 

যে কোন লোক তার ফাইলটা বা চাবিটা রাখতে সাময়িকভাবে ভুল করতে পারেন। কিন্ত ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি তার জ়িনিসপত্র রাখেন একেবারে বেঠিক স্থানে, যেমন ইস্ত্রীটা রাখেন ফ্রিজে বা হাতঘড়িটা রাখেন চিনির পাত্রে।

মানসিকতা বা আচরণে পরিবর্তন

প্রত্যেক ব্যক্তিই কারণবশতঃ দুঃখিত বা মেজাজী হতে পারেন। একজন ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি বিনা কারনে বজ্রপাতের মত রেগে আগুন বা হঠাত কান্নায় ভেঙ্গে পরতে পারেন। এভাবে কোন বোধগম্য কারণ ব্যতিরেকেই দ্রুত মেজাজ পরিবর্তন করে ফেলেন। উল্টোভাবে গরম মেজাজী কোন ব্যক্তি ডিমেনশিয়া আক্রান্ত হবার পরে অস্বাভাবিক নরম হয়ে যেতে পারেন।

ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন

একজন ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট হারিয়ে ভিন্ন মানুষের মত আচরণ করতে পারেন। ব্যক্তিচরিত্রে পরিবর্তনের বিষয়গুলি সুক্ষভাবে নির্দেশ করা বেশ কঠিন। তিনি সন্দেহপ্রবন, খিটখিটে, বিষন্ন, উদাসীন, উদ্বিগ্ন কিংবা বিক্ষুদ্ধ হতে পারেন। বিশেষ করে এমনসব পরিস্থিতিতে যেখানে স্মৃতিসমস্যা তার অসুবিধা ঘটায়।

কর্মস্পৃহা হারানো 

একসময়ে যেকেউ ক্লান্ত হতে পারে সেটা বাড়ীর কাজে, ব্যবসায় কাজে, বা সামাজিক দায়িত্ব পালন যাই হোক না কেন। দৃষ্টতঃ একজন ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি কর্মস্পৃহা হারিয়ে অত্যন্ত নিস্ক্রিয় হয়ে যান, ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিভিশনের সামনে বসে বা আগের চেয়ে অনেক বেশী ঘুমিয়ে কাটান কিংবা অত্যন্ত শখের বিষয়ের প্রতিও স্পৃহা থাকে না।

আপনি যদি উল্লিখিত কোন একটি লক্ষন অনুভব করেন বা আপনার কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের ক্ষেত্রে তেমন্টা আশংকা করেন তাহলে আপনার ডাক্তারের শরনাপন্ন হোন এবং আপনার উদ্বেগের বিষয়টি আলোচনা করুন।